
নতুন করে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার রাতে চালানো নতুন দফার এই হামলায় কয়েকজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে। এর পর উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত চারটি দেশে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ওই হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
ইরানের কোনারাক কাউন্টি এবং জাস্ক ও বন্দর লেঙ্গেহ শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জিরোফতের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে। হরমুজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাসের পূর্বাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এ ছাড়া কেশম দ্বীপের মাসান গ্রামের আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। হরমুজ প্রণালির দিক থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, রাডার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ইরানের সরকারি মালিকানাধীন দুটি ট্যাংকারেও হামলার তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন হামলার পর পাল্টা হামলা শুরু করার কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ইরানের দাবি অনুযায়ী, জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
জর্ডানের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন থাকা হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তাদের দাবি, হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং কিছু সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই দাবির সঙ্গে একমত নয়। মার্কিন কর্মকর্তারা হামলায় হতাহত ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছে দেশটি। অবশিষ্ট তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লোকালয় থেকে দূরে প্রত্যন্ত এলাকায় পড়লেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জর্ডানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাতেও সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলায় একটি মেরামত কেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জাম সংরক্ষণের গুদাম এবং একটি নজরদারি ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে। জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকায় আগুন লাগার পাশাপাশি কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবিও করেছে তারা।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সন্দেহজনক ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ভূপাতিত করায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এদিকে বাহরাইনে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা একটি সামরিক অবস্থান এবং রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এটি তাদের চলমান সামরিক অভিযানের একটি ধাপের অংশ।
হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় বিভিন্ন পক্ষের দেওয়া হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন এই সামরিক উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।